নারীর অগ্ররযাত্রার পথে বাধাসমূহ এবং তার প্রতিকারে করনীয়।

আজকের নারীরা আকাশ পেরিয়ে মহাকাশ ছুলেও এর সার্বিক ফল আশানুরুপ নয় কেননা দেশের ৫০% এর অধিক জনসংখ্যাই যখন নারী তখন তাদের মধ্যে গুটি সখ্যংক নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র দিয়ে পুরো গোষ্ঠীকে বিচার করা যাবে না। আরও অনেক পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হবে বহুদূর। নারীর অগ্রগতিতে বা ক্ষমতায় অর্জনে এখনও রয়েছে নানান রকমের প্রতিবন্ধকতা। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো-
১. প্রচলিত মূল্যবোধ ও আইনের সীমাবদ্বতা এবং
২.পশ্চাৎপদ রক্ষনশীল ধমার্ন্ধ মানসিকতা।
১. প্রচলিত মূল্যবোধ ও আইনের সীমাবদ্বতা:
 সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ নারীকে পুরুষের চাইতে অধিনস্ত করে রাখে। শিশুবয়স থেকেই একজন কন্যাসন্তান দেখে সমাজে পুরুষদের প্রভাব। বিভিন্ন আচার-আচরণ, পোশাক, চলাফেরা ও কথা বলার ধরন প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিভিন্নধর্মী নিয়মের জালে আবদ্ধ হতে হয় তাকে। পিতৃতন্ত্রের পক্ষে এমন সব মূল্যবোধ তৈরি হয় যা তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় অন্ধকার আবর্তে। শুরু হয় হিনমন্যতায় ভোগা। তারা শিক্ষার সুযোগ পায় না, স্বাবলম্বী হতে পারে না। সর্বোপরি, আর্থিক বা মানসিকভাবে তাকে পুরুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়।
প্রচলিত আইনও নারীর বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। সংবিধানে নারী-পুরুষের সম অধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ হচ্ছে না। যৌতুক, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ প্রভৃতি অপরাধে শাস্তির বিধান থাকলেও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় অপরাধী। সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিয়ে, বিবাহ-বিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব- সব ক্ষেত্রেই আইনের কাঠামোগত দুর্বলতায় নারী হয় বঞ্চিত। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে যে সন্তানকে সে জন্ম দেয়, বড় করে, সে সন্তানের অভিভাবকত্ব পায় না নারী। সম্প্রতি বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নামের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। সম্পত্তির ক্ষেত্রে মুসলিম আইনে নারী পুরুষের অর্ধেক পায়, হিন্দু নারীরা তো তাও পায়না।
২. পশ্চাৎপদ রক্ষণশীল ধর্মান্ধ মানসিকতা : সমাজে রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন কিছু লোক নারীকে সর্বক্ষেত্রে অবদমিত করে রাখতে চায়। নারীমুক্তিকে তারা ধর্মের চরম অবমাননা বলে ভাবে। কুসংস্কারে আচ্ছন্ন নিয়মের জালে তারা নারীসমাজকে আবদ্ধ করে রাখতে চায়। আজও গ্রামবাংলার বহু নারী রক্ষণশীল ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন কিছু লোকের ফতোয়ার শিকার। এটিও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।
সমাধানের উপায়
শিক্ষা, মূল্যবোধ, সততা, নৈতিকতা, সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ঐতিহ্যকে বিবেচনায় না এনে কোনো প্রক্রিয়াতেই নারীর অগ্রগতি সম্ভব নয়। এর সাথে সাথে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে।
ক. নারীর স্বার্থ রক্ষাকারী আইন প্রবর্তন : বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তান ধারণে পূর্ণ স্বাধীনতা, সম্পত্তিতে সম অধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব প্রভৃতি বিষয়ে সনাতন আইন পালটে নারী-পুরুষের সমান স্বার্থ রক্ষাকারী আইন প্রবর্তন করতে হবে।
খ. শিক্ষার ব্যাপক সুযোগ ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ: নারীকে নিজ নিজ অধিকার ও ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্যে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। নারীকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী সতামতের প্রাধান্য দিতে হবে।
গ. প্রচার মাধ্যমগুলোতে নারীকে সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন: প্রচার মাধ্যমে নারীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা চলবে না। যথাযোগ্য সম্মানের সাথে এবং রুচিসম্মতভাবেই গণমাধ্যমগুলোতে আসবে নারী চরিত্র।
ঘ. নারীর কাজের স্বীকৃতি : নারীকে তার কাজের যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে। সন্তান লালন ও গৃহস্থালি কাজকে কিছুতেই ছোট করে দেখা চলবে না। বরং পুরুষকেও এসব কাজে সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে যাতে নারী-পুরুষ উভয়ই ঘরে-বাইরে সমানভাবে কাজে অংশ নিতে পারে।
ঙ. রক্ষণশীল মানসিকতার পরিবর্তন : ধর্মকে পুঁজি করে রক্ষণশীলদের যে ফতোয়াবাজি তা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।
সময় এসেছে নারীকে আরও এগিয়ে নেওয়ার। এ বিষয়টা মাথায় রেখেই আমাদের এগোতে হবে। কেউ যদি মনে করেন নারীকে অবহেলিত রেখেই সমাজের ও দেশের উন্নয়ন সম্ভব- সেটা কখনও চিন্তা করাও উচিত হবে না। কারণ পুরুষের সাফল্যের পেছনেও রয়েছে নারীর অবদান।
Share the Post:

4 Responses

  1. বিছানা গরম করতে কত টাকা নেশ মাগী? তরে চুইদা মারার সময় হইসে।

  2. তরে কুছু কাটা করে লাশ পানিতে ফেলব।মুজাহিদ ভহাইয়েরা তৈরি আছে। মারার আগে পুটকি মাইরা ফাটাই ফেলবো।

  3. স্বামীর সেবা করা আর বাচ্চা জন্ম দেয়া ছাড়া আর কোন কাজ নাই নারীদের। শুধু বিছানায় শোয়ার জন্য আল্লাহ্‌ তোদের সৃষ্টি করেছে। বেশি বাড়িস না তুই। জবাই করে মারবো।

  4. খুব সুন্দর লিখা আপা। একদম সত্য বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *